জল রং এবং পোস্টার কালারের পার্থক্য

জল রং ও পোস্টার রং এর পার্থক্য জল রং এবং পোস্টার কালারের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এজন্য কিছু ছবি জলরঙ্গে ভালো হয় আর কিছু ছবি পোস্টার কালারে। এমনকি আঁকার জন্য যে কাগজ ব্যবহার করছো তার ধরণের ওপরেও নির্ভর করে কি রং করা উচিত। জল রং এবং পোস্টার কালারের পার্থক্য বলার আগে আমি তোমাকে একটা মিল বলি। জলরং এবং পোস্টার কালার দুটোই কিন্তু পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু জলরঙ্গে আঁকতে চাইলে বিশেষ কাগজ ব্যবহার করতে হয়। অথচ, পোস্টার কালার যে কোনো ধরণের কাগজের ওপর ব্যবহার করা যায়। জলরং একটু তরল, পোস্টার কালার অপেক্ষাকৃত ভারী। সব রং ই রঞ্জক এবং কিছু জোড়া লাগানোর উপাদান দিয়ে তৈরী হয়। কিন্তু রংগুলো কেমন হবে বা কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা নির্ভর করে মিশ্রিত রঞ্জক এর আকার এবং সাথে কি মেশানো আছে তার ওপর। জলরং এর রঞ্জক অনেক মিহি, তাই এটা খুব সুন্দর করে সমানভাবে কাগজের ওপর ছড়িয়ে যায়। ঠিক এই কারণেই জলরং অন্যান্য রং এর তুলনায় বেশি স্বচ্ছ। কিন্তু পোস্টার কালারে রঞ্জক এর দানাগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি বড়, এজন্য এই রং অনেক অস্বচ্ছ ও ভারী। পাশাপাশি পোস্টার কালারে আরো যেসব উপাদান মেশানো থাকে, সেগুলোও রংটাকে বেশি অস্বচ্ছ করে তোলে। পোস্টার কালারের সুবিধা হচ্ছে একটা রং দিয়ে আরেকটা রং ঢেকে দেয়া যায়। কিন্তু জলরং ঢাকা যায় না, তখন দুটো রং মিলে একটা ভিন্ন রং সৃষ্টি করে। কিন্তু জলরং এর সুবিধা হচ্ছে, এটা অনেকগুলো স্তরে আঁকতে ব্যবহার করা যায়। যতো বেশি পানি মেশানো যাবে, এই রং ততো হালকা হবে। চাইলে কয়েক স্তর দিয়ে পোস্টার কালারের মতো ভারীও করা সম্ভব। কিন্তু এতো স্বচ্ছ হওয়ার কারণে জলরং এর ছবিতে কোনো জায়গা সাদা রাখতে চাইলে সেটা আগে নিয়ে ঢেকে বা ফাঁকা রাখতে হয়। নাহলে অন্য রঙ পড়ে গেলে সাদা করা যায় না, কিন্তু পোস্টার কালারে রংটা ঢেকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়া যায়। জলরং শুকাতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে। এবং শুকানোর সময় প্রয়োগের বা কাগজের ধরণের ওপর নির্ভর করে । পোস্টার কালার ভারী হওয়াতে রঙিন কাগজেও সুন্দরভাবে ছবি ফুটিয়ে তোলা যায় কিন্তু জলরং এ রঙ্গিন কাগজে ছবি ফুটিয়ে তোলা যায় না। আর তাছাড়া পোস্টার কালার জল রং এর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের এবং কম টেকসই। অথচ, পোস্টার কালার দিয়েই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো জলরং এর মতোই কিন্তু সূক্ষ্মভাবেই উপস্থাপন করা যায় ।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ