বিখ্যাত চিত্রশিল্পী যামিনী রায়

বাংলা চিত্রকলায় বিশিষ্ট শিল্পধারার অন্যতম শিল্পী হলেন স্বনামখ্যাত যামিনী রায় (১৮৮৭-১৯৭২) । বাংলা চিত্রকলায় নিজেই নিজস্বতার পরিচয় দিয়ে নিজের শিল্পীসত্তার প্রকাশ ঘটে ছিলেন। যামিনী রায়ের বাল্যজীবন কেটেছিল গ্রামে। তার পিতা রামতরণ একজন সৌখিন শিল্পী ছিলেন। যামিনী রায় ১৬ বছর বয়সে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি হন। তিনি অনুভব করেন চিত্রচর্চা তার নিজস্ব স্থান নয়। তবে একসময় তিনি বাংলা লোকো শিল্পে ও পটশিল্পে আকৃষ্ট হয়ে তিনি মেদিনীপুর, কালীঘাট প্রভৃতি স্থানে গিয়ে বিভিন্ন পট সংগ্রহ করেন। যামিনী রায় - গিলার্ডি সাহেবের কাছে তেলরঙের আঁকা শিখলেও পরবর্তী সময়ে জলরং এর মাধ্যমে অসামান্য সব ছবি আঁকেন।
যামিনী রায়ের পটচিত্রে স্থান পায়- মানুষজন, পশুপাখি ও গ্রাম বাংলার চিত্র। তাঁর ছবির বিষয়ের মধ্যে রামায়ণ ও মহাভারতের নারী পুরুষ, রাধাকৃষ্ণ প্রভৃতি দেখা যায়। যেমন জীবন হয়েছে তেমনি ফুটে উঠেছে গ্রামের চাষি, কামার, কুমোর, বাউল, বৃদ্ধা, সাঁওতাল, পশুপাখি, বৈষ্ণব, ফকির প্রভৃতি। যামিনী রায়ের আঁকা উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো - সাঁওতাল মা ও দুই ছেলে, কোনে ও তার দুই সঙ্গী, কৃষ্ণ বলরাম, যুদ্ধরত রাজা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
যামিনী রায় সব সময় চেষ্টা করেছেন তার ছবি অন্যদের থেকে আলাদা করতে। তাঁর চিত্রশিল্পে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই তাঁর অনুগামী হন। ভারতীয় চিত্রকলায় তার মৌলিক সৃষ্টি প্রতিভা বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে। বিদেশি শিল্পী গণও তাঁর চিত্রে গুণগত দিক খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর আঁকা ছবিগুলি আমাদের নাড়া দেয়, মনকে দুলিয়ে দেয়। তাঁর হাতের তুলি রং-এ সব যেন জীবন্ত হয়ে গেছে। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে তার ছবি সর্বভারতীয় প্রদর্শনীতে 'স্বর্ণপদক' লাভ করে। '১৯৫৫' খ্রিস্টাব্দে এই প্রতিভাধর শিল্পী কে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভারত সরকার সম্মানিত করেন। তিনি বাংলা চিত্রকলা কে শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলেন। যে কারণেই বাংলা চিত্রকলায় তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি 1.প্রখ্যাত চিত্রকর যামিনী রায় কার প্রিয় শিষ্য ছিলেন? Answer:অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2.যামিনী রায় কোন শিল্পকে তার আঁকায় স্থান দিয়েছিলেন ? Answer:কালীঘাটের পটশিল্প
যামিনী রায়ের আঁকা কিছু বিখ্যাত ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো :'সাঁওতাল জননী ','মা ও শিশু ', 'গণেশ জননী', 'নৃত্যরত সাঁওতাল', 'যিশু', 'রাধাকৃষ্ণ' ইত্যাদি।

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ